পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১ মে থেকে কারখানার সব কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ থাকবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, বর্তমান বাজার অস্থিরতা, ব্যাংক হিসাবের অমিল, কাঁচামালের অভাব ও কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমের অপ্রতুলতার কারণে ১ মে ২০২৫ থেকে কারখানার সব কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ থাকবে। এছাড়া কোম্পানির ডায়িং ও ইউটিলিটি বিভাগের সব কার্যক্রম আগামী ২৫ মে থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হবে।
২০১৯-২০ হিসাব বছরের পর থেকে কেয়া কসমেটিকস নিরীক্ষিত ও অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। ফলে কোম্পানিটির আর্থিক ও ব্যবসায়িক কোনো হালনাগাদ তথ্য জানতে পারেননি বিনিয়োগকারীরা। ২০১৯-২০ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কেয়া কসমেটিকস। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ২৩ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছিল।
কেয়া কসমেটিকস কোম্পানির চারটি বিভাগের অধীনে তাদের সব কারখানা পরিচালনা করে। বিভাগগুলো হলো কসমেটিকস, নিট কম্পোজিট, স্পিনিং ও কটন। শ্রমিক অসন্তোষের পর ডিসেম্বর থেকে গার্মেন্ট সম্পর্কিত বিভাগের কারখানাগুলো বন্ধ।
এসব কারখানায় প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মরত ছিলেন, যার উল্লেখযোগ্য অংশ শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী।
বহু বছর ধরে দেশের প্রসাধন ও রূপচর্চা শিল্পে অন্যতম পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে ব্যবসা করে আসছে কোম্পানিটি। তবে বন্ধ ঘোষণার পর এখনো ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা।
২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কেয়া কসমেটিকসের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ১০২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১১০ কোটি ২৩ লাখ ১৭ হাজার ৩২৪। এর মধ্যে ৪৬ দশমিক ২৭ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এছাড়া ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ১৯ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ডিএসইতে কেয়া কসমেটিকসের শেয়ার সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ৫ টাকা। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৩ টাকা ৭০ থেকে ৭ টাকা ৪০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।